সংখ্যাগুরুর অহংবোধে অথবা অভিমানে ভোগা কোন জাতিই কখনো মহানজাতিতে পরিণত হতে পারবে না। সংখ্যাগুরুর ধারনা হতে পারে ধর্ম জাত, বর্ণ জাত অথবা মতাদর্শ জাত। সংখ্যা লঘুকে অবদমন করে সংখ্যাগুরুর অধিপত্য প্রতিষ্ঠার অপধারা সৃষ্টির আদি থেকে আজ অবধি চলে এসেছে। নিরন্তর এ যুদ্ধ আজও চলছে। আদিমযুগে একটি গোত্র যখন খাদ্য ও বাসস্থানের আশায় অন্য গোত্রের এলাকায় যেত তখন আক্রমণের শিকার হতো, আজ এ আধুনিক যুগে এসেও আমরা যেন সেই প্রাগৈতিহাসিক ডিএনএ এর উত্তরাধিকার বয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা বার বার ভুলে যাই ঘৃনার আগুনে পুড়িয়ে মানুষকে ধংশ করা যায় না, ইতিহাসে এর ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে। অর্থনৈতিক প্রয়োজনে উন্নত জীবনের আশায় মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে ইমিগ্রান্ট হয়।ইমিগ্রান্টরা শুধু নিজের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি করে না, সে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ও ভূমিকা রাখেন সে কথা সেসব দেশের জাতীয়তাবাদীরা স্বীকার করতে চান না। এ প্রসঙ্গে আমেরিকার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আজকে আমেরিকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে উন্নতি এর মুলে রয়েছে ইমিগ্রান্টদের অবদান। জাপানিজ আমেরিকান বিজ্ঞানী Dr. Michio Kaku এক স্বাক্ষাতকারে বলেছেন, Science is the engine of prosperity… the information revolution has a weakness and the weakness is precisely the educational system. United States has the worst educational system ……. our graduates completely at the level of third world country….. How come the scientific establishment of the United States doesn’t collapse…? America has a secret weapon that secret weapon is the h-1b, without the h-1b the scientific establishment of this country will collapse, forget about Google forget about Silicon Valley, there would be no Silicon Valley without the h-1b. ……In United States 50% of all PhD candidates are foreign-born, at my system one of the biggest in the United States, 100% of the PhD candidates are foreign-born. The United States is the magnet sucking up all the brains of the world. You remove the h-1b visa and you collapse the economy…….

আমেরিকার একটি উদারতান্ত্রিক immigration ব্যাবস্থা ছিল বলেই সারা বিশ্বের মেধাবীরা তাদের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে হিসাবে আমেরিকারকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেঁছে নিয়েছিল। আমেরিকাসহ অন্যান্য যেসব ইউরোপীয় দেশে উগ্র জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেসব দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মেধাবীরা আস্থার সঙ্কটে ভুগছে। অন্যদিকে কানাডায় উদারতান্ত্রিক immigration ব্যাবস্থা এখনও বলবত থাকায় এখন immigrant দের প্রথম পছন্দ কানাডা। 
ইউরোপ এবং আমেরিকা জুড়ে এখন চলছে Anti-muslim ঘৃণার চাষাবাদ। নিউজিল্যান্ড সাম্প্রতিকতম হামলা এ ঘৃণার চাষাবাদের নিকৃষ্টতম উদাহরণ।আমি বাক্তিগতভাবে অনেককে চিনি যারা শুধু মাত্র বিজ্ঞান গবেষণার স্বপ্নে বিভোর হয়ে ইউরোপ এবং আমেরিকা বিভিন্নদেশে ইমিগ্রান্ট হয়েছেন। ইউরোপ এবং আমেরিকা জুড়ে চলমান Anti-muslim hatred কারনে সন্দেহ নেই তারা দ্বিধাগ্রস্ত হন।পরিবার পরিজন নিয়ে অবচেতন মনে হলেও আতঙ্কিত বোধ করেন। আশা করি কোন একদেশ immigrant দের জন্য তাদের দরজা বন্ধ করে দিলেও অন্য অনেক উদার ত্রান্ত্রিক দেশ immigrant দের জন্য দরজা খুলে দিবে। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পূর্বে অস্টিয়া ও জার্মানি ছিল বিশ্বে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। বিশ্ববিখ্যাত ইহুদি বিজ্ঞানীরা ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় অস্টিয়া ও জার্মানি থেকে বিতাড়িত হন। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং আমেরিকা এসকল বিজ্ঞানীদের জন্য তাদের দ্বার উম্মুক্ত করে দেয়।সেই সময় Sigmund Freud ইংল্যান্ড আভিবাসী হন। তাকে যখন লন্ডনের অদূরে বিলাসবহুল বাড়ি দেখনো হয় তখন তিনি অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী Eric R. Kandel এর ভাষায়– On seeing the tranquility and civility that his forced emigration had brought to him (Sigmund Freud), he was moved to whisper with typical Viennese irony, “ Heil Hitler!”

Leave a comment